অনুবাদকের নাম গুগল
ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার কাজে গুগল তো এক নম্বরেই আছে। এই গুগল অনুবাদের কাজও করে দেয়। গুগল ট্রান্সলেটর গুগলের জনপ্রিয় সেবাগুলোর একটি। http://translate.google.com সাইট থেকে গুগল ট্রান্সলেটরভিত্তিক সেবাগুলো পরিচালনা করা হয়। এক ভাষায় লেখা যেকোনো কিছু অন্য ভাষায় রূপান্তর করা যায় এই সাইট থেকে। কোনো ভাষার ওয়েবসাইটও অনুবাদ করিয়ে নেওয়া যাবে এই ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে। অর্থাত্ এটি আপনার ভার্চুয়াল অনুবাদক হিসেবে কাজ করবে। এমনকি সাধারণ ডকুমেন্ট বা পিডিএফ ফাইলের লেখাও অনুবাদ করে দেয় এটি। তবে বেশ কয়েকটি ভাষা থাকলেও এতে এখন পর্যন্ত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার সুবিধাটি নেই।
অনুবাদ করার এই প্রোগ্রামটি প্রতিনিয়ত উন্নত করা হচ্ছে। গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে অনুবাদ করা যায় এমন ভাষার সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। ইয়াহু, এওএল বা ব্যাবল ফিশের মতো সমসাময়িক অন্যান্য অনুবাদক সিসট্র্যানভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও গুগল ট্রান্সলেটর অনুবাদ করার জন্য তাদের নিজেদের অ্যালগরিদমে তৈরি করা সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এই অ্যালগরিদম সব সময় ব্যাকরণের বিশেষ বিশেষ নিয়ম মেনে না চলেই অন্য ভাষার কথাগুলো খুব সহজ ভাষায় অনুবাদ করে দেয়। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শব্দ ফনেটিকভাবে রূপান্তর করে দেয় গুগল ট্রান্সলেটর। এই অনুবাদক ৮৮ শতাংশ নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে। গুগলের দেওয়া অনুবাদ থেকে যদি আরও নির্ভুল অনুবাদ ব্যবহারকারীর জানা থাকলে suggest a better translation অপশনটি ব্যবহার করে গুগলকে সাহায্য করা যায়।
প্রকল্প শুরুর দিকে অনুবাদ করার জন্য বিপুল পরিমাণ শব্দভান্ডার তৈরি করতে হয়েছে। এ কাজটি করার জন্য গুগল প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন ব্যবহার করে। কারণ, জাতিসংঘের তৈরি করা প্রতিটি প্রতিবেদন আরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রুশ ও স্প্যানিশ—এই ছয়টি আনুষ্ঠানিক ভাষায় অনুবাদ করা থাকে। এরপর এখন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাষা সংযোজন করার কাজ চলছে। একেবারে প্রথম দিকে ১০টি ভাষা দিয়ে শুরু হলেও এখন মোট ৩৫টি ভাষায় লেখা একটি থেকে অন্যটিতে রূপান্তর করা যায়।
যেভাবে কাজ করে
গুগল ট্রান্সলেটরের ব্যবহার খুব সহজ। http://translate.google.com ঠিকানার ওয়েবসাইটে যেতে হবে প্রথমে। ওয়েবসাইটের ওপরের অংশে লেখার জন্য একটি খালি জায়গা দেওয়া আছে। যে লেখাটুকু অনুবাদ করা প্রয়োজন, সেটি এ জায়গায় লিখতে হবে বা পেস্ট করে বসিয়ে দিতে হবে।কোনো ওয়েবসাইট অনুবাদ করার প্রয়োজন হলে সাইটটির ঠিকানাটি লিখতে হবে এই খালি জায়গায়। কোনো ডকুমেন্ট ফাইল অনুবাদ করতে চাইলে Upload a document-এ ক্লিক করতে হবে। Translate from এবং Translate into থেকে কোন ভাষা থেকে কোনটি অনুবাদ করতে হবে, সেটি ঠিক করে দিতে হয়। তবে এমনও হতে পারে, যে লেখাটি অনুবাদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটি কোন ভাষায় লেখা এটি জানা নেই, সে ক্ষেত্রে Translate from থেকে Detect Language বেছে নিতে হবে। অন্য কোনো ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হলে গুগলের Test to speech ব্যবহার করে লেখা পড়ে শোনা যাবে। তবে অন্যান্য ভাষার ক্ষেত্রে এটি কাজ করবে না।
www.google.com/translate ঠিকানার সাইট থেকে এক ভাষায় লেখা কোনো বিশেষ শব্দ (কি ওয়ার্ড) অনুবাদ করে অন্য ভাষার ওয়েবসাইটগুলোতে খোঁজা যাবে।
সব সময় যে গুগল ট্রান্সলেটরের সাইট থেকে অনুবাদ করে নিয়ে আসতে হবে এমন নয়। ওয়েব ব্রাউজার থেকেও ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা অনুবাদ করার জন্য বাড়তি প্রোগ্রাম (প্লাগ-ইন) ব্যবহার করা যাবে। ফায়ারফক্সের প্রোগ্রাম পাওয়া যাবে addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/3361 সাইটে এবং chrome.google.com/extensions/detail/aapbdbdomjkkjkaonfhkkikfgjllcleb ঠিকানায় পাওয়া যাবে গুগল ক্রোমের এক্সটেনশন। অপেরার জন্য ঠিকানা হলো: widgets.opera.com /widget/6580/। তবে ফায়ারফক্স বা ইন্টারনেট এক্সপোরারে গুগল টুলবার (toolbar.google.com) ব্যবহার করা হলে সেটি ব্যবহার করেও অনুবাদের কাজটি করা যাবে ওয়েব ব্রাউজার থেকেই। আবার নিজের তৈরি করা ওয়েবসাইট বা ব্লগটি যেন অন্য ভাষাভাষীরা সহজে ব্যবহার করতে পারে, সেই কাজটিও করা যাবে। এর একটি সহজ পদ্ধতি হলো, গুগলের তৈরি জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা।
http://translate.google.com/toolkit সাইটে গুগলের অনুবাদের নানা প্রোগ্রাম পাওয়া যায়। এসব ব্যবহার করে নতুন ভাষার অনুবাদ টুল তৈরি করা যায়।
সম্প্রতি গুগল ট্রান্সলেটরের ওপর ভিত্তি করে জি-মেইলে ধ্বনিভিত্তিক (ফেনেটিক) পদ্ধতিতে লেখার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বাংলাসহ মোট ১২টি ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করে অন্য কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই জি-মেইলে বাংলা লেখা যাবে। যদি ইংরেজিতে amar bangladesh লেখা হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি বাংলায় ‘আমার বাংলাদেশ’ দেখাবে।
Source: Prothom-alo.com
